বিয়েবাড়ি৷৷কৃষ্ণেন্দু সাঁতরা
বরের ঘরের পিসি অস্ফুটে বলল-"কনের
গলার মোটা হারটা সিওর ইমিটেশনের!"
ওদিকে কনের ঘরের মাসিটি,তার পিতৃদত্ত
তিনভরির চেনটা গলায় সেটিং করতে করতে বললেন - "তিন তিনটে মেয়ের বিয়ে দেওয়া
চাট্টিখানি কথা!দিদি তো একাই বাপেরবাড়ি উজার করে এনেছিল-তাই রক্ষে!"
বরকর্তা-"বরের গাড়ির প্রজাপতিটার
ডানদিকের ডানাটা বাঁদিকের ডানার থেকে একটু ছোটো হয়ে গেছে!এছাড়া আমাদের,আর কোনো ভুল
নাই!"
কনের বান্ধবী-"আমার চাকুরিজীবি ছেলের
সাথে দেখাশোনা হল তাই....কিন্তু তুই যদি সেই ব্যবসায়ীকেই বিয়ে করবি তবে কলেজের
এক্স-টা কী দোষ করল?
ছোট্ট বাচ্চাছেলেটা আইসক্রিমটা হাতে নিয়ে
গেটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ।নিশ্চিত ওর দাঁতে ব্যথা ।সে আইসক্রিমটা কি গরম করে খাবে?
বরের গাড়ির ড্রাইভার-"মশা মারার
ধূপটা কেনা হলো না!গাড়িতে খাবার-দাবার কি এরাও পাঠাবে না?"
ভাঁড়ার ঘর-"মিষ্টিটা- দু'টো করে ঢালাও
দাও।ডালেতে একডাবু ফ্যান দিয়ে ঘেঁটে দাও।"
কফি মেশিন-"পকোড়া আর নেই,শুধু
কফি।দু'মিনিট দাঁড়িয়ে যান-বাটার-টা এখনও পাঞ্চ করিনি!"
জেনারেটর-"কারেন্ট গেলে ডেকে
নেবে-ক্ষণ।এখনই বোতলটা খোলা দরকার।"
কবির উপহার-"আমার লেখা বই-আপনার নতুন
জীবনে উপহার ।"(বইটা কনের হাতবদল হয়ে স্টকরুমের কাপপ্লেট আর শাড়ির মধ্যে পড়ে
হাঁসফাঁস করতে থাকল।)
ফটোগ্রাফার-"মালাটা পড়াবেন না, ধরে
থাকুন।স্মাইল ..."
বিয়ের পুরুত- "খুচরো পয়সা লাগবে,একশো
টাকার মতো। না দাদা,ছোটো একটাকার কয়েন একদম দেবেন না .."
নাপিতটি গম্ভীরভাবে, খিস্তিকে ছড়া-কেটে
বলছিল।আর বরের ভাইটির মনখারাপ কারণ কনের কোনো ছোটো বোন নেই!
পরিবেশ সচেতন ব্যাক্তিটি প্লাস্টিকের
হাতপাখা নাড়তে নাড়তে বললেন-"আপনাদের এই যে কাঁচেরপ্লেট-মাটিরগ্লাসে খাওয়ানোর
পরিবেশ সচেতন কনসেপ্ট- এটা একটা দৃষ্টান্ত ।"
আনস্মার্ট ছেলেটি হাড় চুষতে চুষতে
দেখল-পাশের টেবিলের সুন্দরী তরুণীটি স্মার্টফোনটা উঁচুতে তুলে মুখটা ছুঁচালো করে
প্লেটভরতি মাংস আর ফ্রাইরাইসের সঙ্গে সেলফি তুলল।
চুলে জেল-লাগানো স্মার্ট তরুণটি আরচোখে
মেয়েটির দিকে তাকাতে তাকাতে হাত-দু'টোকে,নায়কদের মতো পকেটে রাখবে নাকি মনীষীদের
মতো বুকে ভাঁজ করে, তা সে ঠিককরে উঠতেই পারল না!
মেয়েটার মা-বাবা রাত্রে খাবে না।ওদের
পেটের মধ্যে গিলেফেলা-কান্নারা দলাপাকিয়ে ভরতি হয়ে যাচ্ছে ।
আমি গেটের সামনের আতর ছড়াতে থাকা ফাজিল
ছেলেটাকে জিগ্যেস করলাম- "মেনুতে মাটন আছে তো?" সে মাথা চুলকে
বলল-"শেষ লাইনে পান নেই- পানমশলা আছে,দাঁতেকাঠি ফ্রি আর শুভরাত্রি এবং
নমস্কার জানাবার লোক নেই,তাই সেটুকুও মেনুকার্ডের শেষে লেখা আছে।"
বাইরের পাতা-ফেলার জায়গাটায়
নিকষ-অন্ধকারের মধ্যে কাউকে দেখা যাচ্ছিল না।কিন্তু একটা কাড়াকাড়ি চলছিল .....।
