Skip to main content

Posts

Showing posts with the label পত্রিকা

পীর পুকুরের মেলা ।।অবিন সেন

  পীর পুকুরের মেলা -অবিন সেন সে প্রায় পাঁচশ বছর আগের কথা। মধ্যপ্রাচ্য থেকে যে সমস্ত পীর, সুফী, গাজী ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন উদয়নারায়নপুরের সিংটি গ্রামের ভাই খাঁ পীর। ‘পীর’ শব্দটা ফারসি, তার অর্থ ইসলামী ধারায় আধ্যাত্মিক গুরু, মুসলমান সাধক ও মহাত্মা ব্যক্তি, আত্মজ্ঞানী। তবে ভাই খাঁ পীরের আসল নাম বা পরিচয় কী তা জানা যায়নি। আসলে তাঁকে নিয়ে নানা কিংবদন্তী কাহিনী প্রচলিত আছে। তার কিছু বিশ্বাসযোগ্য আবার কিছু কাহিনীকে যুক্তি তর্কের আলোয় ব্যাখ্যা করা কঠিন। ফলে, সেই সমস্ত কিংবদন্তির আড়ালে তাঁর আসল পরিচয় চাপা পড়ে গিয়েছে। প্রচলিত আছে, তাঁর খেলার সঙ্গী সাথীরা তাঁকে ‘ভাই’ বলে ডাকত। সেই ডাক থেকেই তাঁর নাম ভাই খাঁ বলে পরিচিত হয়ে গিয়েছে। সিংটি গ্রামের পশ্চিম সীমানায় ফাঁকা মাঠে রাখাল বালকেরা ভাই খাঁর খেলার সাথী ছিল। বলা যায় তিনি ছিলেন তাঁদের সর্দার। কেউ কোনও বিপদে পড়লে তিনি ভরসা দিতেন। কিংবা ঝড় বৃষ্টির মতো কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগে থাকতেন অবিচলিত। শান্ত মায়া-ভারা চোখে বুক চিতিয়ে তিনি সঙ্গী সাথীদের ভরসা দিতেন। এমন কী এও শোনা যায়, তাঁর অবিচলিত শান্ত চা...

পলাশ জন্ম ৷৷রত্না সোম

  পলাশ জন্ম  -রত্না সোম পরের জন্মে পলাশ হব অতিমারীর বুক জ্বালিয়ে সেই দু গালে রঙ মাখাব। তার বলতে রুদ্ধ মাটি অঞ্জলিতে হলুদ পলাশ ঠোঁটেই রাখে শেষ কথাটি। পরের জন্মে পলাশ ব্যথা ঝরছে যা সব শুকনো ডালের তাদের জন্যে নীরবতা। পরের জন্মে পলাশ মেয়ে থাবার নীচে রক্ত ক্ষরণ রোজের মরণ জীবন ছেয়ে। পরের জন্মে নওল কিশোর শ্যাম আকাশে পলাশ রাইয়ের জন্ম জন্ম প্রেমের বাসর। পরের জন্মে পলাশ আবার স্তব্ধ নদীর ঘন বুকে ইচ্ছে ডানা ফের ভাসবার । গতজন্মেও পলাশ ছিলাম হাওয়ার ফাগে অস্ত এঁকে জন্ম ফেরার বাতাস পেলাম।  

কাশতলি ।। রত্না সোম

  কাশতলি ।। রত্না সোম   যেখানে মাটিতে মেঘেদের চাষ হয় হাওয়া হাতে নেয় আগামীর বীজডানা সব ক্ষতে ফোটে মায়া সাদা তোলপাড় কাশতলি তার নাম লেখে আশিয়ানা ।   শরতে সেখানে ধুলোমাখা ক্লেদ ঘাম ক্লান্ত রোদের হাতমুখ হিমে ধোয় পাহাড়ে জমাট কষ্টের রোজকথা দু মুঠোর বাঁধা দায় খোঁড়ে এ সময়।   পতাকারা আরো সুদূর শূণ্যে ওড়ে অথচ মাটির ভেতর ক্রমশ খালি বুক থেকে ছিঁড়ে স্নেহ প্রেম ঘাস স্বপ্ন খননের দেশ মেখেছে কয়লাকালি।   তবু কোথাও শীষদের ঘন আড্ডা ঘায়ে ঘায়ে লেখে অনামী ইস্তাহার সাদা পাখনার রোদজ্বলা দিন চিনে দুলে দুলে গাওয়া আকাশের অধিকার ।   গান পাতা থাকে প্রতিজ্ঞা ছুঁয়ে দূর চোখ পাতা থাকে শান্তির সেরা দেশে আড়ালের দাঁত প্রতিদিন বিষ ঢালে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাওয়া শ্রমজীবী ফুসফুসে ।   কাশতলি সেই কাশতলি এসে থামে স্ক্রিনের শরত কি বোর্ডে অ বলা বোধ ছিঁড়ে খুঁড়ে ওড়ে কবিতার সাদা পাতা লেখে বিস্তার লেখে আরোগ্য শোধ।

আকাশ কুসুম ।। অবিন সেন

  আকাশ কুসুম ।। অবিন সেন তুমি যেদিন মাঠের মতন দূর শূন্যপুর শিউলি ছাতিমে ঘন মেঘে নিচু বালিয়াড়ি— বিবাগী নৌকোর মতন ভেসে গেছো আমি তো জেনেছি সেদিন, আকাশ কুসুম কাকে বলে হারিয়ে যাওয়া, কাকে বলে নিষিদ্ধ ঘুম! পাখির শিসের দূরত্ব যদি মেখেছ সারা গায়ে, রোদে ঝরা বকুল কি মোছেনি দুঃখ— চোখের জলে? যেন কেউ ফেলে গেছে ঝিনুকের শোক, মুক্তোর অসুখ দিগন্ত ছাড়িয়ে ওই তো পায়ের ছাপ হারানো বিকেল ফেরে কি? তবুও ছুটি খুলে ধরে বিছানা চাদর—ঘুমের ইচ্ছা আর কোল বালিশ কোথাও যুদ্ধ হচ্ছে, কোথাও চটকলে লকআউট আমি শুধু আকাশ কুসুম ভেবেছি— যেন শান্ত সাঁকো জলের শব্দে ঘুমিয়ে পড়েছি, ফেরো বললেই কি ফেরা যায়? হয়ত তোমার মেজো-মামার শহরে এখন বরফ পড়ছে— কলের পুতুল হাতে নিয়ে তুমি বসে আছো আর খুব হাসছ নিশ্চয়ই আমি শুনছি ঘুমের জানালায় ঝর্না নেমেছে প্রবল।  

বৃষ্টি সন্ধানী ।।অমিতাভ সেনগুপ্ত ।।ধারাবাহিক অনুবাদ-৫

বৃষ্টি সন্ধানী ।।অমিতাভ সেনগুপ্ত ।।ধারাবাহিক অনুবাদ-৫ (Chasing the Monsoon-Alexander Frater থেকে অনুবাদ) (কপিরাইট- অমিতাভ সেনগুপ্ত ।। বাণিজ্যিক কারণে ব্যবহৃত নয়।)     (৭) প্রথম অধ্যায় ১৯৮৬’র শরতে উদ্ভট কিছু ঘটনাস্রোত চিনা তুর্কিস্তানের মরুদ্যান, লন্ডনের টিচিং হাসপাতাল ঘুরে চেরাপুঞ্জীর দিকে আমায় পথ দেখায় বাবার পরিবর্তে । সড়কপথে যাচ্ছিলাম পাকিস্তান থেকে পশ্চিম চিনের কাশগড়। সদ্য খুলে দেওয়া কারাকোরাম হাইওয়েতে শুরু তিন দিনের যাত্রা । ৪৭০ মাইল দীর্ঘ একসারি ঊর্দ্ধমুখী গিরিপথ কারাকোরাম হাইওয়ে প্রাচীন সিল্ক পথের একটা শাখা অনুসরণ করে চলে চিন সীমান্ত অবধি । মায়াবী উপত্যকা হুনজা’র মাঝ দিয়ে নিয়ে যায় আমাদের। পাকধরা বাজরা খেত বিকেলের রোদে গোলাপি। আখরোট গাছের সারিতে পতপত করে ওড়ে সিল্কের উজ্জ্বল কেতন। পেরিয়ে যাই পৃথিবীর সুন্দরতম পর্বতগুলোর একটা রাকাপোশি ; দুধারে তার অগুন্তি ছোটো গিরিশ্রেণীর কুচকাওয়াজ। সাবেক তারকা শিল্পী যেমন কোরাস দল নিয়ে গাইতেন প্রেক্ষাগৃহে তেমন লাগে রাকাপোশিকে। খুবানি কিনতে থামা একটা ছোটো চুনি খনির কাছে। চাহিদা থাকলে তবেই কাজ হয় খনিতে। এখানে মধ্যযুগের এক দুর্গে প...

অভিযোজন ।। দীপ্তেন্দু প্রকাশ ধাড়া

  অভিযোজন ।।  দীপ্তেন্দু প্রকাশ ধাড়া বাড়ছে প্রতিকূলতা       বিরূপ প্রকৃতি, পরিবেশ শক্ত কাঠির ছোঁয়া — কুঁকড়ে যাচ্ছে কেন্নো।   লবন মাত্রার তারতম্য তৎপরতার সাথে গুঁটিয়ে নিচ্ছে শামুক ক্যালসিয়াম খোলসের খাঁজে।   নির্লজ্জ হাতের স্পর্শ দোলাচল উদ্ভিদের পাতায়— পাতা অবনত লজ্জাশীল লজ্জাবতী।   মানিয়ে নিয়েছে পক্ষী কুলও আধুনিকতা, শহুরেপনায়— ডাল, পাতা ছেড়ে ধাতব তার ঠোঁটে ভোরের কাক।   একটু খোলস ছেড়ে, কিছুটা মাথা তুলে, প্রতিকূলতার প্রতিকূলে বেঁচে থাক — কুঁকড়ে না যাওয়া কিছু সত্যি।

জীবাশ্ম পুরুষের খিদে ৷৷ নিমাই জানা

জীবাশ্ম পুরুষের খিদে ৷৷ নিমাই জানা   মেঘ কখনো ভাত হয়ে যায় জিভের তলায় জমতে থাকে খিদের পাহাড়, পুরুষ ফুল শুধু শহরের পোড়া সিগারেট খায় উবু হয়ে বসে পড়ি নগ্ন শরীরে  রাতের মানুষের কোন খিদে নেই বাতাস খাবে বলে চাঁদকে আঁকড়ে রাখে মহাকাশ নেশায় নক্ষত্র ছুঁয়ে যায় শুক্র গ্রহের ভোর অথচ তাদের কেমন মুণ্ডহীন দেহ জ্বলজ্বল করে সারারাত রানা পুকুরের পাড়ে সাদা কাপড়ে পতপত করে নিঝুম পতাকা, প্রতিটি রঙেই সমান্তরাল দৈর্ঘ্য  তাই, পাতার কম্পনের কোন উৎস বিন্দু নেই গুহার ভেতর অন্য ঘর থাকে বলে গুহায় ঢুকে যাচ্ছে চারটি অর্বাচীন পথিক গভীর রাতেই সকলে দাহ হয় দাহের স্থলবিন্দু এক একটি মানুষের অগ্নাশয়ে  মেঘেদের ও খিদে পায় মানুষের মতো বিদূষক জোনাকি সকল কষ্টের টিম টিমে আলোঘর, সন্ন্যাসী একা হাঁটে রাতের অন্ধকারে পুরুষ ও উদোম হয় শামুকের কাছে পায়ে হেঁটে বেড়ায় বিম্বিসার অজস্র পুরুষ সার দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে জীবাশ্ম সভ্যতায় কোনো বিকল্প ধানক্ষেত নেই একটি পুরুষের ভেতর..  

কবিতা-বোষ্টুমী চল ভাসি দুজনায়।। পলাশ পোড়েল

  বোষ্টুমী চল ভাসি দুজনায় - পলাশ পোড়েল   মন আখড়ায় মাটির দাওয়া-রসকলি আল্পনা কালাকে ভেবে একলা দুপুর-নুপূর নিবিড় কল্পনা। থইথই ভরা নদী আর কদমতলায়-প্রাণের সুজন বোষ্টুমী চল ভাসি একসাথে থাকে –যদি মুগ্ধমন। খঞ্জনি বাজে মহোৎসবে-কুঞ্জ সাজাও প্রাঙ্গণে সাধনা আর কামনা ছিল-যুবতী দেহ অঙ্গনে । চলা ছিল চলার ছন্দে-আঁধার ভরা দেহ নদী আখড়ায় দু'জনে -কৃষ্ণসুখে ভেসে যাই নিরবধি।

ফাইনম্যান।। দোলনচাঁপা দাশগুপ্ত

ফাইনম্যান।।  দোলনচাঁপা দাশগুপ্ত "আসুন স্যার । দাঁড়ান, অন্ধকার । মোবাইলের টর্চটা জ্বালাই। অজিতেশ অবাক । এমন ঘুপচি সিঁড়ি দিয়ে মানুষ চলাফেরা করতে পারে ? কিন্তু কী করবে ! দেহোপজীবিনীর সস্তা ডেরায় আসতে গেলে তো অন্ধকার গলিগালা পেরোতেই হয় খরিদ্দারদের। সে না হয় এসেছে অন্য কাজে। সঙ্গে স্ত্রী । দুজনেই ডাক্তার। সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংয়ের কথা আলোচনা করতে করতেই পায়েলের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠেছিল। "হ্যাঁ গো, ওদের চলবে কীভাবে?" শহরের বিখ্যাত এন্ডোক্রিনোলজিস্ট অজিতেশ । রোগীর অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির হাল হকিকত বুঝে ফেলে মুহূর্তে ।কিন্তু স্ত্রীর প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেল না।দিনের মধ্যে পঞ্চাশবার হাত ধুচ্ছে, স্যানিটাইজার মাখছে ভাইরাসের ভয়ে। এখন যৌনকর্মীদের কাছে কেউ আসবে না। স্বাভাবিক । না খেতে পেয়েই ক্রমশ মরে যাবে ওরা। নিশ্চুপে। খিদে না ভাইরাস কোনটা বেশি খতরনাক গুলিয়ে গেল অজিতেশের। পায়েল একরোখা। একবার মাথায় ঢুকেছে মানে যাবেই। "ছাড়ো তো ! ওসব এনজিও মারফত টাকা দেওয়ার মানে হয় না । নিজেরাই যাই চলো। হাজার পাঁচেক টাকার চাল ডাল কিনে নিয়ে যাই। আর কিছু ওষুধ, মাস্ক।" এতকাল ফেমিনিস্ট বলে ...

অনুগল্প|পর্ব ২|পাপড়ি ভট্টাচার্য

অনুগল্প|পর্ব ২|পাপড়ি ভট্টাচার্য বলি বিজন্যাসম্যান সুজয় তাঁর প্রাসাদে থাকেন সপরিবারে ।তাঁর বাড়ির কালিপুজো, বলি সব বন্ধ ।কলেজ পালানো মেয়ে- এখন গৃহবন্দি ।ডিপ্রেশড।একদিন বাজল বিয়ের সানাই-লক্ষ লক্ষ টাকার আনন্দ- ভোজনউৎসব।কনকাঞ্জলী।কান্নার সমুদ্র মায়ের বুকে। খবর।দ্বিরাগমনের দিন-আলোর প্রাসাদে অন্ধকার ।আন্দামানের সমুদ্রপাড়ে শুয়ে আছে একফালি জ্যোস্না। ব্যাঞ্জনবর্ণা গৌর-নিতাই।অ আর আ।ওরা একসুতো।অ অনেকদিন লিখেছেন কবিতা।খুব নাম যশ তাঁর।আ-এলেন লিখলেন- জয় করলেন ।এখন সরকারী সঞ্চালক ।নামী শিল্পীদের সঙ্গে ওঠা-বসা ।নবাগতা ক-সুন্দরীর সাথে আ-প্লাস।কিছুদিন পর ,অ-দেখেন ব্যাঞ্জনবর্ণা মঞ্চে। অনুষ্ঠান শেষে-দুজনের হাসি মুখ সেলফি।মাইনাস অ-হলেন অন্ধকারে ।

বৃষ্টি সন্ধানী ।পর্ব ৪।অমিতাভ সেনগুপ্ত

বৃষ্টি সন্ধানী ।।অমিতাভ সেনগুপ্ত ।।ধারাবাহিক অনুবাদ-৪ (Chasing the Monsoon-Alexander Frater থেকে অনুবাদ) (কপিরাইট- অমিতাভ সেনগুপ্ত ।। বাণিজ্যিক কারণে ব্যবহৃত নয়।) (৪) ১৯৪১’র ভিজে মরসুমে রান্নাঘরে ঢুকে বাবা জানালেন পার্ল হারবারে বোমা ফেলেছে জাপানিরা। সেদিন মাঝারি দখিন বাতাস ছিল। মেঘের আচ্ছাদন ছিল হালকা (কাস্টিলেটেড অল্টোকিউমুলাস)। আগে কখনও ওরকম বিবর্ণ, কম্পিত দেখিনি তাঁকে। রেগেও গিয়েছিলেন। হঠাৎ খুব উচ্চকিত হয়ে উঠেছিল তাঁর স্কটিশ উচ্চারণ। তিনি জানতেন আমাদের দ্বীপের জীবন শেষ হবার সংকেত এ ঘটনা। সেটা যদিও উপলব্ধি করিনি কিছুদিন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই গুজব ছড়ায়। মালেকুলা’র (প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ –অনুবাদক) এক আবাদকারী সন্ধের আঁধারে ইম্পিরিয়াল নৌবহরের (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানি নৌবহর- অনুবাদক) যুদ্ধ জাহাজদের নিঃসাড়ে এগোতে দেখেছে ; তেজো’র পদাতিক সেনার জন্য মজুত তৈরি রাখতে স্যান্টো-য় (প্রশান্তমহাসাগরীয় দ্বীপ- অনুবাদক) শয়ে শয়ে বাইসাইকেল নামিয়েছে ইয়োকোহামা’য় রেজিস্ট্রি করা মালবাহী জাহাজ। ইফাতে (প্রশান্তমহাসাগরীয় দ্বীপ –অনুবাদক) দ্বীপে লাভদায়ী গোলমরিচ বাগানের মালিক এক স্থানীয় জাপানি তার ক...

শাস্তি ।। সৌরাংশু পান্ডা

শাস্তি ।।সৌরাংশু পান্ডা অগম্য পথ, তবুও হাঁটছি দেখো একলা ছাতা বৃষ্টির ওজন মাপে ভুলের কড়ি গুনছি একা একা প্রতারকের খবর কে আর রাখে? যেখানে সামনে ধ্বংস রাখা ছিল অযথা ফুটল রজনীগন্ধা রাতে সবটা জেনেও আঙ্গুল ধরেছিলাম স্বপ্ন দিয়ে মেহেন্দি আঁকা হাতে চাঁদোয়ার মত মেঘ জমানো আকাশ আলোর গল্পে তোমার পাশে আছি সে সব শুধুই কথার কথা ছিল চোখের কাপড়, মিথ্যে কানামাছি ঠিক সময়ে টেনেছ সীমারেখা নিজের জীবন নিজেই করেছি সিজ চাইছি এখন ভেঙ্গে পড়ুক মাথায় অসৎ প্রোমোটারের করা ব্রিজ।

রোদজাতক-৭ ৷৷ রত্না সোম

রোদজাতক-৭ ৷৷ রত্না সোম চিরকাল শুধু সংখ্যা আমরা চিরদিন পদাতিক তোমরা দিয়েছ গালভরা নাম পরিযায়ী শ্রমিক। ঘর ছিল এক ঠিক ঘর নয় খিদে সেখানেও বালাই পেটসন্ধানী এ অলি ও গলি হাড় ভেঙে জোটে ছাই। সেও কি জোটে ! তেনার মর্জি লক্ আউট আর ডাউন ভবিতব্যের এ পিঠ ও পিঠ আমিই বনেছি ক্লাউন। মরার অনেক অপশন তবু নাছোড় চেষ্টা বাঁচার করোনা এড়ালে থাবা পেতে আছে নিশ্চিত অনাহার। গাড়ি চাপা আছে , আছে ঘুমন্ত বুক পিষে যাওয়া রেলে এমন কত কি মরেই তো রোজ মশা মাছি এলেবেলে! মরলে সংখ্যা শহীদ হয় না বরং হিসেবে কমে দরদী ভাষণে বাহারি প্যাকেজ নাটক দিব্বি জমে। প্রশ্ন এটাই হেঁটে আসি কেন রাস্তায় রেলপথে টাকার পেটোয়া "বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে ।" কি পেলে আর কি কি না পেলে রাস্তাই অবশেষ কোনদিন তুমি বুঝবে না ঠিক সভ্য লোকের দেশ। হাড়ে হাড়ে কত দাগ জমে আছে সব ক্ষত চাবুকের একদিন পেশী স্বাদ বুঝে নেবে চাওয়া পাওয়া গতিফের। পাপকে জমাও আরো ঘন হোক বিস্ফোরণের আগে খাও পিও আর মৌজ করে নাও যদি ভলক্যানো জাগে --- পুড়বে ডানার স্বস্তি পুড়বে বাসার আলোও ঠিক সভ্যতা ফের গড়তে লাগবে পরিয...

কৃষ্ণের- কাপলেট। রামকৃষ্ণ সামন্ত

      কৃষ্ণের- কাপলেট।  রামকৃষ্ণ সামন্ত ১ সম্পর্কের এই পরীক্ষাতে সব প্রশ্ন কমন নয়,   ইগো নিয়ে বসলে দুজন, কে করবে সমন্বয়? ২ এমন শহরে নাগরিকত্ব দিও আমার নামে, যার সাথে হুবহু মিল মৌসিনরামের । ৩ মনে রেখো এই পৃথিবীর সব বাবাদের কাছে, মেয়েকে রানী করে রাখার ম্যাজিক জানা আছে । ৪ ভীষণ সহজ এই দুনিয়ায় তাদের হৃদয় ভাঙ্গা, যারা কেবল আজন্মকাল ভালোবাসার কাঙাল ।

বৃষ্টি সন্ধানী ।পর্ব-৩।অমিতাভ সেনগুপ্ত

বৃষ্টি সন্ধানী ।।অমিতাভ সেনগুপ্ত ।।ধারাবাহিক অনুবাদ- পর্ব-৩ (Chasing the Monsoon-Alexander Frater থেকে অনুবাদ) (কপিরাইট- অমিতাভ সেনগুপ্ত ।। বাণিজ্যিক কারণে ব্যবহৃত নয়।) (৩) বছরে দু’ তিনবার কেবল আমাদেরই জন্য নির্দিষ্ট কিছু মরশুমি ভেলকি দেখাত আবহাওয়া। লাল চাঁদ দেখা যেত হারিকেনের আগে। অরূণ রঙা ভোর, তেলতেলে সবুজ সকালের মেঘ। সূর্যর দেখা যদি বা মিলত তবে তাকে ঘিরে থাকত এক বলয়। তার খোলা পার্শ্বদেশ দেখিয়ে দিত কোন দিক থেকে ধেয়ে আসছে আঘাত। এত দ্রুত নেমে যেত ব্যারোমিটার যেন সেটা পড়েই যাবে দেয়াল থেকে। সমুদ্র যেন কাচের। এক অদ্ভুত স্তব্ধতা নামত। গ্রামের আগুনকুন্ড থেকে ওঠা ধোঁয়া যেন কাঠামোয় ঢালা স্থাপত্যের স্তম্ভ উপস্তম্ভ। ঘন কালো মেঘাচ্ছন্ন খিলান দেওয়া ছাদ ধরে রেখেছে। স্পষ্ট শোনা যেত দূরের দ্বীপগুলো থেকে ভেসে আসা কুকুরের ডাক, শিশুদের কান্না। হারিকেন সংকেত পতাকাগুলো তৈরি করতেন বাবা। প্রথামতো সেগুলো ওড়ানো হত হাসপাতালের সিঁড়ির নীচে ফাঁকা জমিতে পোঁতা পোল থেকে। সাদা পতাকা ছিল ঝড় দেরিতে আসার( ১২ ঘন্টা বাদে) সংকেত। হলুদ তাড়াতাড়ির (৬ ঘন্টা) সংকেত। ঝড় এসে পড়ার চরম সংকেত জানাত কালো পতাকা। চ...

অনুগল্প । পাপড়ি ভট্টাচার্য

অনুগল্প । পাপড়ি ভট্টাচার্য লকডাউন শুচিস্মিতা আর বিজন।বৈশাখে ছিল বিয়ের ডেট।চৈত্রে কেনাকাটা সারা।শেষ ওরা মিট করেছিল পনেরোই মার্চ।ওদের বিয়েতে মত ছিলনা একজনের।বিজনের পিসি।দিনরাত গজগজ।" কলাগাছের মতো লম্বা মেয়ে, হাফ প্যান্টুলুন পড়ে।সে এসে এ সংসারে....না না।" হঠাৎ করোনায় পিসি চলে গেলেন।রেখে গেলেন কালঅশৌচ আর লকডাউন । প্রতিবেশী নিত্য অশান্তি ঝড়াপাতার জন্য ।পাশের বাড়ির ছাদে পাতা পড়ে জল জমছে।ডাল ছাঁটা হলো।গাছের ব্যাথা-মাধুরীরও ব্যাথা।ওরা লুকিয়ে সুমিষ্ট ফল কুড়োয় শুধু পাতার বেলা..... মাধুরী চোখের জল মোছেন। হঠাৎ আমফান ঝড় ধেয়ে এলো।চলছে তান্ডব।ঝড়ের আঘাতে একসময় -শিকড় উপড়ে শুয়ে পড়ল ফলন্ত আম্রপালী ।