Skip to main content

রোদজাতক-৭ ৷৷ রত্না সোম



রোদজাতক-৭ ৷৷ রত্না সোম


চিরকাল শুধু সংখ্যা আমরা
চিরদিন পদাতিক
তোমরা দিয়েছ গালভরা নাম
পরিযায়ী শ্রমিক।

ঘর ছিল এক ঠিক ঘর নয়
খিদে সেখানেও বালাই
পেটসন্ধানী এ অলি ও গলি
হাড় ভেঙে জোটে ছাই।

সেও কি জোটে ! তেনার মর্জি
লক্ আউট আর ডাউন
ভবিতব্যের এ পিঠ ও পিঠ
আমিই বনেছি ক্লাউন।

মরার অনেক অপশন তবু
নাছোড় চেষ্টা বাঁচার
করোনা এড়ালে থাবা পেতে আছে
নিশ্চিত অনাহার।

গাড়ি চাপা আছে , আছে ঘুমন্ত বুক
পিষে যাওয়া রেলে
এমন কত কি মরেই তো রোজ
মশা মাছি এলেবেলে!

মরলে সংখ্যা শহীদ হয় না
বরং হিসেবে কমে
দরদী ভাষণে বাহারি প্যাকেজ
নাটক দিব্বি জমে।

প্রশ্ন এটাই হেঁটে আসি কেন
রাস্তায় রেলপথে
টাকার পেটোয়া "বিচারের বাণী
নীরবে নিভৃতে কাঁদে ।"

কি পেলে আর কি কি না পেলে
রাস্তাই অবশেষ
কোনদিন তুমি বুঝবে না ঠিক
সভ্য লোকের দেশ।

হাড়ে হাড়ে কত দাগ জমে আছে
সব ক্ষত চাবুকের
একদিন পেশী স্বাদ বুঝে নেবে
চাওয়া পাওয়া গতিফের।

পাপকে জমাও আরো ঘন হোক
বিস্ফোরণের আগে
খাও পিও আর মৌজ করে নাও
যদি ভলক্যানো জাগে ---
পুড়বে ডানার স্বস্তি পুড়বে
বাসার আলোও ঠিক
সভ্যতা ফের গড়তে লাগবে
পরিযায়ী শ্রমিক
রোদজাতকের জন্মপুরাণ
লিখবেই পদাতিক।


Popular posts from this blog

পলাশ জন্ম ৷৷রত্না সোম

  পলাশ জন্ম  -রত্না সোম পরের জন্মে পলাশ হব অতিমারীর বুক জ্বালিয়ে সেই দু গালে রঙ মাখাব। তার বলতে রুদ্ধ মাটি অঞ্জলিতে হলুদ পলাশ ঠোঁটেই রাখে শেষ কথাটি। পরের জন্মে পলাশ ব্যথা ঝরছে যা সব শুকনো ডালের তাদের জন্যে নীরবতা। পরের জন্মে পলাশ মেয়ে থাবার নীচে রক্ত ক্ষরণ রোজের মরণ জীবন ছেয়ে। পরের জন্মে নওল কিশোর শ্যাম আকাশে পলাশ রাইয়ের জন্ম জন্ম প্রেমের বাসর। পরের জন্মে পলাশ আবার স্তব্ধ নদীর ঘন বুকে ইচ্ছে ডানা ফের ভাসবার । গতজন্মেও পলাশ ছিলাম হাওয়ার ফাগে অস্ত এঁকে জন্ম ফেরার বাতাস পেলাম।  

রোদজাতক-৬ ৷ রত্না সোম

রোদজাতক-৬ ৷৷ রত্না সোম রোদজাতক-৬  স্পষ্ট বললে - আরও কতগুলো যুদ্ধজাহাজ ঢেউয়ের দিকে অস্ত্র তাক করে বসে থাকত। স্পষ্ট করে বললে -  পারমাণবিক গবেষণাগারে বন্দি বিজ্ঞানের পিঠে চাবুক কষিয়ে আদায় করে নেওয়া হত আরও মারাত্মক কোন বিস্ফোরণ । স্পষ্ট কথা বললে - সীমান্তে কাঁটাতারের মুখ রক্ত দিয়ে লাল রঙ করে নেওয়া হত বিপদ সংকেত । স্পষ্ট ভাষায় বললে -  সব আকাশের ডানা ছেঁটে দিয়ে খাঁচায় পোষ মানানোর টুকরো কবিতা লিখতে বাধ্য করা হত। স্পষ্ট অক্ষরে বিঁধলে - সমস্ত পাঠশালাদের দু চোখে বেঁধে দেওয়া হত অন্ধত্বের নাম নিশানা । স্পষ্ট সুরে গাইলে - সব গানের টুঁটি চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলার চেষ্টায় ভালরকম বুঝিয়ে দেওয়া হত আর্তনাদ কাকে বলে । স্পষ্ট হাতের লেখায় লিখলে -  সব কাগজ কালি কলমের বিরুদ্ধে বিশেষ আদালত বসানো হত -  স্পষ্ট প্রোগ্রামিং ঘেঁটে ঘ করে কম্পিউটারকে যে কোন সময় নির্বোধ বানিয়ে দেওয়াকে মানবিক অধিকারের তকমা পরানো হত। স্পষ্ট শ্লোগানকে বিনা বিচারে কয়েদ করে রাখার জন্য আনা হত নতুন আইনের হা হা হা হা - তাই ঘুমের মধ্যে স্বপ্নের মত কুয়াশার সবকিছু অ...