Skip to main content

Posts

Showing posts with the label কবিতা

পলাশ জন্ম ৷৷রত্না সোম

  পলাশ জন্ম  -রত্না সোম পরের জন্মে পলাশ হব অতিমারীর বুক জ্বালিয়ে সেই দু গালে রঙ মাখাব। তার বলতে রুদ্ধ মাটি অঞ্জলিতে হলুদ পলাশ ঠোঁটেই রাখে শেষ কথাটি। পরের জন্মে পলাশ ব্যথা ঝরছে যা সব শুকনো ডালের তাদের জন্যে নীরবতা। পরের জন্মে পলাশ মেয়ে থাবার নীচে রক্ত ক্ষরণ রোজের মরণ জীবন ছেয়ে। পরের জন্মে নওল কিশোর শ্যাম আকাশে পলাশ রাইয়ের জন্ম জন্ম প্রেমের বাসর। পরের জন্মে পলাশ আবার স্তব্ধ নদীর ঘন বুকে ইচ্ছে ডানা ফের ভাসবার । গতজন্মেও পলাশ ছিলাম হাওয়ার ফাগে অস্ত এঁকে জন্ম ফেরার বাতাস পেলাম।  

কাশতলি ।। রত্না সোম

  কাশতলি ।। রত্না সোম   যেখানে মাটিতে মেঘেদের চাষ হয় হাওয়া হাতে নেয় আগামীর বীজডানা সব ক্ষতে ফোটে মায়া সাদা তোলপাড় কাশতলি তার নাম লেখে আশিয়ানা ।   শরতে সেখানে ধুলোমাখা ক্লেদ ঘাম ক্লান্ত রোদের হাতমুখ হিমে ধোয় পাহাড়ে জমাট কষ্টের রোজকথা দু মুঠোর বাঁধা দায় খোঁড়ে এ সময়।   পতাকারা আরো সুদূর শূণ্যে ওড়ে অথচ মাটির ভেতর ক্রমশ খালি বুক থেকে ছিঁড়ে স্নেহ প্রেম ঘাস স্বপ্ন খননের দেশ মেখেছে কয়লাকালি।   তবু কোথাও শীষদের ঘন আড্ডা ঘায়ে ঘায়ে লেখে অনামী ইস্তাহার সাদা পাখনার রোদজ্বলা দিন চিনে দুলে দুলে গাওয়া আকাশের অধিকার ।   গান পাতা থাকে প্রতিজ্ঞা ছুঁয়ে দূর চোখ পাতা থাকে শান্তির সেরা দেশে আড়ালের দাঁত প্রতিদিন বিষ ঢালে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাওয়া শ্রমজীবী ফুসফুসে ।   কাশতলি সেই কাশতলি এসে থামে স্ক্রিনের শরত কি বোর্ডে অ বলা বোধ ছিঁড়ে খুঁড়ে ওড়ে কবিতার সাদা পাতা লেখে বিস্তার লেখে আরোগ্য শোধ।

আকাশ কুসুম ।। অবিন সেন

  আকাশ কুসুম ।। অবিন সেন তুমি যেদিন মাঠের মতন দূর শূন্যপুর শিউলি ছাতিমে ঘন মেঘে নিচু বালিয়াড়ি— বিবাগী নৌকোর মতন ভেসে গেছো আমি তো জেনেছি সেদিন, আকাশ কুসুম কাকে বলে হারিয়ে যাওয়া, কাকে বলে নিষিদ্ধ ঘুম! পাখির শিসের দূরত্ব যদি মেখেছ সারা গায়ে, রোদে ঝরা বকুল কি মোছেনি দুঃখ— চোখের জলে? যেন কেউ ফেলে গেছে ঝিনুকের শোক, মুক্তোর অসুখ দিগন্ত ছাড়িয়ে ওই তো পায়ের ছাপ হারানো বিকেল ফেরে কি? তবুও ছুটি খুলে ধরে বিছানা চাদর—ঘুমের ইচ্ছা আর কোল বালিশ কোথাও যুদ্ধ হচ্ছে, কোথাও চটকলে লকআউট আমি শুধু আকাশ কুসুম ভেবেছি— যেন শান্ত সাঁকো জলের শব্দে ঘুমিয়ে পড়েছি, ফেরো বললেই কি ফেরা যায়? হয়ত তোমার মেজো-মামার শহরে এখন বরফ পড়ছে— কলের পুতুল হাতে নিয়ে তুমি বসে আছো আর খুব হাসছ নিশ্চয়ই আমি শুনছি ঘুমের জানালায় ঝর্না নেমেছে প্রবল।  

অভিযোজন ।। দীপ্তেন্দু প্রকাশ ধাড়া

  অভিযোজন ।।  দীপ্তেন্দু প্রকাশ ধাড়া বাড়ছে প্রতিকূলতা       বিরূপ প্রকৃতি, পরিবেশ শক্ত কাঠির ছোঁয়া — কুঁকড়ে যাচ্ছে কেন্নো।   লবন মাত্রার তারতম্য তৎপরতার সাথে গুঁটিয়ে নিচ্ছে শামুক ক্যালসিয়াম খোলসের খাঁজে।   নির্লজ্জ হাতের স্পর্শ দোলাচল উদ্ভিদের পাতায়— পাতা অবনত লজ্জাশীল লজ্জাবতী।   মানিয়ে নিয়েছে পক্ষী কুলও আধুনিকতা, শহুরেপনায়— ডাল, পাতা ছেড়ে ধাতব তার ঠোঁটে ভোরের কাক।   একটু খোলস ছেড়ে, কিছুটা মাথা তুলে, প্রতিকূলতার প্রতিকূলে বেঁচে থাক — কুঁকড়ে না যাওয়া কিছু সত্যি।

জীবাশ্ম পুরুষের খিদে ৷৷ নিমাই জানা

জীবাশ্ম পুরুষের খিদে ৷৷ নিমাই জানা   মেঘ কখনো ভাত হয়ে যায় জিভের তলায় জমতে থাকে খিদের পাহাড়, পুরুষ ফুল শুধু শহরের পোড়া সিগারেট খায় উবু হয়ে বসে পড়ি নগ্ন শরীরে  রাতের মানুষের কোন খিদে নেই বাতাস খাবে বলে চাঁদকে আঁকড়ে রাখে মহাকাশ নেশায় নক্ষত্র ছুঁয়ে যায় শুক্র গ্রহের ভোর অথচ তাদের কেমন মুণ্ডহীন দেহ জ্বলজ্বল করে সারারাত রানা পুকুরের পাড়ে সাদা কাপড়ে পতপত করে নিঝুম পতাকা, প্রতিটি রঙেই সমান্তরাল দৈর্ঘ্য  তাই, পাতার কম্পনের কোন উৎস বিন্দু নেই গুহার ভেতর অন্য ঘর থাকে বলে গুহায় ঢুকে যাচ্ছে চারটি অর্বাচীন পথিক গভীর রাতেই সকলে দাহ হয় দাহের স্থলবিন্দু এক একটি মানুষের অগ্নাশয়ে  মেঘেদের ও খিদে পায় মানুষের মতো বিদূষক জোনাকি সকল কষ্টের টিম টিমে আলোঘর, সন্ন্যাসী একা হাঁটে রাতের অন্ধকারে পুরুষ ও উদোম হয় শামুকের কাছে পায়ে হেঁটে বেড়ায় বিম্বিসার অজস্র পুরুষ সার দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে জীবাশ্ম সভ্যতায় কোনো বিকল্প ধানক্ষেত নেই একটি পুরুষের ভেতর..  

কবিতা-বোষ্টুমী চল ভাসি দুজনায়।। পলাশ পোড়েল

  বোষ্টুমী চল ভাসি দুজনায় - পলাশ পোড়েল   মন আখড়ায় মাটির দাওয়া-রসকলি আল্পনা কালাকে ভেবে একলা দুপুর-নুপূর নিবিড় কল্পনা। থইথই ভরা নদী আর কদমতলায়-প্রাণের সুজন বোষ্টুমী চল ভাসি একসাথে থাকে –যদি মুগ্ধমন। খঞ্জনি বাজে মহোৎসবে-কুঞ্জ সাজাও প্রাঙ্গণে সাধনা আর কামনা ছিল-যুবতী দেহ অঙ্গনে । চলা ছিল চলার ছন্দে-আঁধার ভরা দেহ নদী আখড়ায় দু'জনে -কৃষ্ণসুখে ভেসে যাই নিরবধি।

শাস্তি ।। সৌরাংশু পান্ডা

শাস্তি ।।সৌরাংশু পান্ডা অগম্য পথ, তবুও হাঁটছি দেখো একলা ছাতা বৃষ্টির ওজন মাপে ভুলের কড়ি গুনছি একা একা প্রতারকের খবর কে আর রাখে? যেখানে সামনে ধ্বংস রাখা ছিল অযথা ফুটল রজনীগন্ধা রাতে সবটা জেনেও আঙ্গুল ধরেছিলাম স্বপ্ন দিয়ে মেহেন্দি আঁকা হাতে চাঁদোয়ার মত মেঘ জমানো আকাশ আলোর গল্পে তোমার পাশে আছি সে সব শুধুই কথার কথা ছিল চোখের কাপড়, মিথ্যে কানামাছি ঠিক সময়ে টেনেছ সীমারেখা নিজের জীবন নিজেই করেছি সিজ চাইছি এখন ভেঙ্গে পড়ুক মাথায় অসৎ প্রোমোটারের করা ব্রিজ।

রোদজাতক-৭ ৷৷ রত্না সোম

রোদজাতক-৭ ৷৷ রত্না সোম চিরকাল শুধু সংখ্যা আমরা চিরদিন পদাতিক তোমরা দিয়েছ গালভরা নাম পরিযায়ী শ্রমিক। ঘর ছিল এক ঠিক ঘর নয় খিদে সেখানেও বালাই পেটসন্ধানী এ অলি ও গলি হাড় ভেঙে জোটে ছাই। সেও কি জোটে ! তেনার মর্জি লক্ আউট আর ডাউন ভবিতব্যের এ পিঠ ও পিঠ আমিই বনেছি ক্লাউন। মরার অনেক অপশন তবু নাছোড় চেষ্টা বাঁচার করোনা এড়ালে থাবা পেতে আছে নিশ্চিত অনাহার। গাড়ি চাপা আছে , আছে ঘুমন্ত বুক পিষে যাওয়া রেলে এমন কত কি মরেই তো রোজ মশা মাছি এলেবেলে! মরলে সংখ্যা শহীদ হয় না বরং হিসেবে কমে দরদী ভাষণে বাহারি প্যাকেজ নাটক দিব্বি জমে। প্রশ্ন এটাই হেঁটে আসি কেন রাস্তায় রেলপথে টাকার পেটোয়া "বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে ।" কি পেলে আর কি কি না পেলে রাস্তাই অবশেষ কোনদিন তুমি বুঝবে না ঠিক সভ্য লোকের দেশ। হাড়ে হাড়ে কত দাগ জমে আছে সব ক্ষত চাবুকের একদিন পেশী স্বাদ বুঝে নেবে চাওয়া পাওয়া গতিফের। পাপকে জমাও আরো ঘন হোক বিস্ফোরণের আগে খাও পিও আর মৌজ করে নাও যদি ভলক্যানো জাগে --- পুড়বে ডানার স্বস্তি পুড়বে বাসার আলোও ঠিক সভ্যতা ফের গড়তে লাগবে পরিয...

কৃষ্ণের- কাপলেট। রামকৃষ্ণ সামন্ত

      কৃষ্ণের- কাপলেট।  রামকৃষ্ণ সামন্ত ১ সম্পর্কের এই পরীক্ষাতে সব প্রশ্ন কমন নয়,   ইগো নিয়ে বসলে দুজন, কে করবে সমন্বয়? ২ এমন শহরে নাগরিকত্ব দিও আমার নামে, যার সাথে হুবহু মিল মৌসিনরামের । ৩ মনে রেখো এই পৃথিবীর সব বাবাদের কাছে, মেয়েকে রানী করে রাখার ম্যাজিক জানা আছে । ৪ ভীষণ সহজ এই দুনিয়ায় তাদের হৃদয় ভাঙ্গা, যারা কেবল আজন্মকাল ভালোবাসার কাঙাল ।

কাপলেট- সৌরাংশু পান্ডা

সৌরাংশু পান্ডা’ র- কাপলেট ১           প্লিজ কাজল রেখা টানিস না, চোখ দুটি তোর নদী যার বিপদসীমা লঙ্ঘনে, আমি বানভাসি হই যদি ! ২ অভাবের বাণী স্পষ্ট বলেই বন্ধু চিনলো লোকে মেঘলা চেনা যায়না প্রিয়, সানগ্লাস পরা চোখে। ৩ অর্থ আগুন কাড়ছে ফাগুন, জীবন ব্যস্তময় শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে মানেই বেঁচে থাকা নয় ! ৪ হয়তো যত প্রবঞ্চক, পুড়িয়ে যাবে সব প্যাশন আমিও যদি ফুরিয়ে যাই, তোমরা ভাববে ডিপ্রেশন।

বিষাদগাথা । অবিন সেন

 বিষাদগাথা । অবিন সেন এসো সুবাতাস, এসো চৈত্র রাতের হাওয়া                      জলের মুকুরের কাছে এসে দ্যাখো চাঁদের মুখের কাছে বসে ডাকে জল ছলাৎ ছল ছলাৎ ছল... কোনও একদিন এমনি নামতা ছিল  নামতা পড়ার ছল বেলা পড়ে আসার মতো গম ক্ষেতে নেমে দেখেছো হয়ত  শোকাতুর মাঠের আলে আমি শুয়ে আছি আমাকে মাড়িয়ে যাচ্ছে তিনটে হরিণ? ওহো হরিণ কোথায়? থু থু মিথ্যুক, ও যে জ্যোৎস্নার ভুত সারা রাত জুড়ে চরে... চরাচরে আমাকে বার বার কুড়ায় আবার  ফেলে আসে ওই মাঠের পারে সাঁকো ভাঙা নদীর কিনারে, জানে, তো আমি জল ভালোবাসি, ভালোবাসি গড়িয়ে যাবার শুকিয়ে যাবার খেলা, তাই হয়ত হরিণ বাড়ির অঙ্ক ফেলে আমাকে বার বার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে আসো? জানি যদিও ফেলে দেওয়াই সহজ বরং কুড়াতে গেলে আধেক জীবন বেড়ার ধারে  নষ্ট ফষ্ট গরুর পায়ে মাড়িয়ে যাবার মতন তিল তিল করে ত্বকের ভিতর, রক্তবীজের ভিতর ছড়িয়ে পড়ে, আহা আহা নষ্ট ...

কবিতায়-দীপ্তেন্দু প্রকাশ ধাড়া

কবিতায়-দীপ্তেন্দু প্রকাশ ধাড়া নীলাভ ফ্রেমের উপর সূর্যাস্তের লালচে আভা। পরিবর্তিত বায়ুবেগে কিছু কালো মেঘ ধীরে ধীরে সংগঠনের পথে। নীল কখনো কখনো বদলায় আরো নীলে— শ্লীলতার মাত্রা ছাড়িয়ে। আর প্রতীকী রঙ? আজ সংগঠনের অন্তরায়। কোদাল, কাস্তে কিংবা মজদুর ধীরে ধীরে জমা মেঘ— আকাশের নীলে গোধূলির লাল। বিজ্ঞেরা দেখেন সিঁদুরে মেঘ। আর আমার বিকেল— নীলচে আকাশে জমছে মেঘ, বৃষ্টি নামবে বোধহয়।

রোদজাতক-৬ ৷ রত্না সোম

রোদজাতক-৬ ৷৷ রত্না সোম রোদজাতক-৬  স্পষ্ট বললে - আরও কতগুলো যুদ্ধজাহাজ ঢেউয়ের দিকে অস্ত্র তাক করে বসে থাকত। স্পষ্ট করে বললে -  পারমাণবিক গবেষণাগারে বন্দি বিজ্ঞানের পিঠে চাবুক কষিয়ে আদায় করে নেওয়া হত আরও মারাত্মক কোন বিস্ফোরণ । স্পষ্ট কথা বললে - সীমান্তে কাঁটাতারের মুখ রক্ত দিয়ে লাল রঙ করে নেওয়া হত বিপদ সংকেত । স্পষ্ট ভাষায় বললে -  সব আকাশের ডানা ছেঁটে দিয়ে খাঁচায় পোষ মানানোর টুকরো কবিতা লিখতে বাধ্য করা হত। স্পষ্ট অক্ষরে বিঁধলে - সমস্ত পাঠশালাদের দু চোখে বেঁধে দেওয়া হত অন্ধত্বের নাম নিশানা । স্পষ্ট সুরে গাইলে - সব গানের টুঁটি চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলার চেষ্টায় ভালরকম বুঝিয়ে দেওয়া হত আর্তনাদ কাকে বলে । স্পষ্ট হাতের লেখায় লিখলে -  সব কাগজ কালি কলমের বিরুদ্ধে বিশেষ আদালত বসানো হত -  স্পষ্ট প্রোগ্রামিং ঘেঁটে ঘ করে কম্পিউটারকে যে কোন সময় নির্বোধ বানিয়ে দেওয়াকে মানবিক অধিকারের তকমা পরানো হত। স্পষ্ট শ্লোগানকে বিনা বিচারে কয়েদ করে রাখার জন্য আনা হত নতুন আইনের হা হা হা হা - তাই ঘুমের মধ্যে স্বপ্নের মত কুয়াশার সবকিছু অ...

কবি নিমাই জানা ৷আমার প্রিয় পাঁজর

আমার প্রিয় পাঁজর ।।নিমাই জানা [১] আত্মযোগের কোন কাঁটাতার নেই ক্ষত করতে পারেনা কোন অসুস্থতাকে শিমুল ফুলের জন্ম নিয়ে রাস্তা ধরে কেউ হাঁটছে    । বাজ পড়া মেয়েকে বুকে নিয়ে ফিরে যাওয়া নিজের গ্ৰাম ঘরে । নদীর পাড়ে অসম্ভব হাওয়া দিলে কেউ ফিরে আসে না    । আমি তাহলে নিজের ভেতর অস্তিত্ব খুঁজতে গভীর রাত কে বেছে নিয়েছি    । ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ নিয়ে ধরতে চাইছি অজানা ফসলকে । মেসোপটেমিয়া থেকে অনেকগুলো গ্রীষ্মকালের সাদা ক্যানভাস পাওয়া, সূর্য ডুবে যাওয়ার পর লাল রং ঢেলে দিচ্ছে কোন বিষাক্ত পুরুষের ভেতর । পশ্চিমাকাশে ভোরের তারা অনেক দেরি আছে , ভিতরের রক্ত থেকে বেছে    বের করছো প্রাণহীন কণিকা। তাকে নিয়ে জানালা    তৈরি করা যায় আমার চৌকাট তিনঘরা দেশলাই কাঠির সুস্থতা কতক গুলো প্রদীপ পুড়িয়ে গেছে গন্ধ ছড়াতে । শুধু পটাশ গাছের মাথায় ফুলেরা রেষারেষি করে দাম্পত্য মিলে রাখে ভেজা দড়িতে….. [২] ভেজা কাপড় গায়ে    দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে বসে আছে কৃষ্ণেন্দু কপালে উড়ে এসে বসে প্রজাপতির রেণু কৃষ্...

পার্থিব স্পর্শ ৷৷মানস দাস

পার্থিব স্পর্শ ৷৷  মানস দাস আবেগের আশ্চর্যজনক অনুভূতিগুলি আমি জানি এবং আমি বলতে সাহস করবো একাকী আমার অজানা কে! বিবৃতি দেবো কানে কানে গোপনে। চাঁদে আমি আমার চোখ ঠিক রেখেছিলাম প্রশান্ত ও প্রশস্ত অম্বরে দ্রুত তোমার বিচরণ। তোমার প্রিয় পথ আমার চোখ এড়িয়ে যায়নি। অপরিকল্পিত বাস ছিল ঝরনার পাশে। যার প্রশংসা করার কেউ ছিল না, ভালোবাসার লোকও খুব কম। অগুনতি অচেনাদের মধ্যে ভ্রমণ করেছ সেগুলি অতীত কিন্তু স্মৃতিপটে! এখনও ম্লান হয়ে যায়নি। তপ্ত রোদে তৃষ্ণার্ত পথিকের সঙ্গে জলের নিগূঢ় সম্পর্কের মতোই নিবিড় যোগ। স্বপ্নের আবেশে এখনও স্পষ্ট আওয়াজে অজানার ডাকে সাড়া দিতে হয়! এখন, আমি জানি তোমার খুব আক্ষেপ হয়। একটিও সুন্দর ফুল পৃথিবীতে বপন করা হয়নি! একটিও ফল পরিপূর্ণতা লাভ করেনি! কোনো সংযত ভাবধারা গড়ে ওঠে নি! তাই আমার প্রার্থনা...... নতুন ভাবে সাজিয়ে নিও, নতুন অনুধাবন কর। পৃথিবী এবং স্বর্গের তত্ত্বাবধানের নতুন শক্তি অনুভব করো। যা হবে সুন্দর, শান্ত এবং সংযত। যে শক্তিতে ভাসমান মেঘ তার তার রাষ্ট্রকে ধার দেওয়ার পরও ধরিত্রীর বাঁক দেখতে ব্যর্...

কবিতাঃ স্পর্শহীন অপেক্ষা৷৷-দীপ্তেন্দু প্রকাশ ধাড়া

কবিতাঃ স্পর্শহীন অপেক্ষা৷৷-দীপ্তেন্দু প্রকাশ ধাড়া আমার সেই নীল আকাশ তেমনি আছে, ঠিক আগের মতই সে আকাশের বুকে আজও ওড়ে সেই চিল টা, সেই স্বপ্ন গুলো দূর, দূর, আরো দূর যেন ছুঁতে চায় দিগন্ত — ছুঁতে চায় গোধূলির রঙ, অস্তরাগ। আর আমার সেই চেনা প্রকৃতি, যার গন্ধ মেখেছি সারা শরীরে — উদ্বেল হয়েছে মন, স্বভাবগত ঋতু বদলে। এই তো সেদিন শিমুল পলাশ রাঙালো শহর, ঝরা ফুলে ট্রামলাইন, পাহাড়ের কোল। আরো একদিন বিকাল জুড়ে ঘন কালো মেঘ, ঠান্ডা দমকা হাওয়া সেই প্রকৃতি, সেই ভালোলাগা সবুজ। তবুও বদলেছে জীবন, বেঁচে থাকা, জীবিকার সংজ্ঞা, বদলেছে ভালোলাগা, ভালোবাসার ভাষা স্পর্শ নয়, দূরত্বই ভালো থাকা। বেজে ওঠা মুঠো ফোনে নির্ধারিত শব্দ — ‘ভালো থেকো, সাবধানে থেকো ’ , অপেক্ষায় থাকবো হেমন্তের, সোনালি ধানের।

অসুখ শরীর কবিতা:-নিমাই জানা

 অসুখ শরীর কবিতা: (এক) -নিমাই জানা   শিথিল পুরুষ হয়ে শুয়ে থাকি ।  কংক্রিটের ওপারে চাঁদ ।                                                           এক প্রান্তে দিকভ্রান্ত ভবিষ্যৎ মুখে নিয়ে ভবিষ্যৎ শুনছে- কুল গাছের পাতা।  প্রহর জাগা পাখির মত ঘুম ভেঙে যায় প্রতিটি প্রহরের।                           কেমন করে ঘুমায় সবাই!                                       ...